দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় এই ঘটনা ঘটে।
বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না; সেটাও হতে পারে না।
রুমিন ফারহানার এমন বক্তব্যে বিএনপির সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। রুমিন ফারহানা বলতে থাকেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না সেটাও হওয়া সম্ভব না, মাননীয় স্পিকার।’
এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা আরও প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণ খেলাফিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হইতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণ খেলাফিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণ খেলাপি হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।’
সরকারি দলের সদস্যদের প্রতিবাদের মধ্যে রুমিন বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা, মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম তখন তারাও হট্টগোল করত। এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে। আরো খারাপ আচরণ।’
হইচইয়ের মধ্যেই রুমিন বলতে থাকেন, ‘এই সংসদে বেশির ভাগ সংসদ সদস্য ঋণ খেলাপি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা, এগুলো আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহুত দেখেছি।’
এ সময় রুমিন ফারহানার জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হলে মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তবে সংসদে হইচই-হট্টগোল চলতে থাকে।
হট্টগোলের মধ্যে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কেউ থামছিলেন না। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও দাঁড়িয়ে কিছু বলছিলেন। ডেপুটি স্পিকার সব সদস্যকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘একজন সদস্য বক্তব্য রাখছেন। তার কথা বলার স্বাধীনতা আছে। কিন্তু অন্যান্য সদস্যরা উনার বক্তব্যে বাধা প্রদান, সেটা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।’
রুমিন ফারহানা এ সময়ও দাঁড়িয়ে কিছু বলতে চাইছিলেন। তাকে বসার অনুরোধ করেন ডেপুটি স্পিকার।
চিফ হুইপের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে, তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের টার্ন যখন আসে আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন।’
এরপর বিলের আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য আরেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানকে আহ্বান জানান। তখনো হইচই চলছিল। এ সময় রুমিন ফারহানা ও হান্নান মাসউদকে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে দেখা যায়। স্পিকার তাদের বসতে অনুরোধ করেন। এরপর শেখ মুজিবুর রহমান বক্তব্য দেন।
পরে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে সেটা স্পিকার রুলিং দিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জবাব দিতে পারেন।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আজকে উনি কি বললেন আমরা তো একেবারেই বুঝতে পারলাম না। উনি কী গালি দিলেন, না দোয়া দিলেন কিছুই বুঝলাম না। এখন আসলেই কি তিনি বক্তব্য রাখতে পারলেন?’
এ পর্যায়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘তারা সংসদে সব সমস্যার সমাধান চান। কিন্তু নিজেরাই সমস্যা তৈরি করলে সেটা সমস্যা।’
বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, ভঙ্গুর রাজনীতি পেয়েছে উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘একজন সদস্য যখন কথা বলেন তার নিজেরও দৃষ্টি রাখা দরকার। মাত্র কয়েক দিন আগে উনি (রুমিন ফারহানা) বিএনপির পক্ষে কথা বলেছেন।’
পরে বিলের আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমিতো বিষয় কি সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি কি বললাম, আলোচনা কি হলো?’
তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক, একটা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা এখানে চলে আসছে।’
/অ